ওয়ালিসিয়ার শাসক ড্রাকুলা সুলতান মুরাদ এর আদেশ অমান্য করে পার্শ্ববর্তী দেশের সাথে সম্পর্ক করে উসমানীদের সাথে চুক্তি ভঙ্গ করে। সুলতান মুরাদ ওয়ালিয়ার শাসক ড্রাকুলাকে এর্দিনে আসতে আদেশ করে।তার বিশ্বাসঘাতকতার জন্য তাকে জবাবদিহির মুখোমুখি করে। ড্রাকুলা শপথ করে সে উসমানীদের সাথে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং পার্শ্ববর্তী দেশের সাথে সে ষড়যন্ত্রে জরাবে না।তখন সুলতান মুরাদ তার কথার বিশ্বাস করবে কিভাবে জানতে চায় এবং পরবর্তীতে সে আবার ভুল করবে না, এটার কিভাবে নিশ্চিত হবে।তখন ওয়ালিসিয়ার শাসক ড্রাকুলা তার দুই পুত্র, ভ্লাদ ও রাডুকে সুলতান মুরাদ এর কাছে রেখে যায়।তারপর সুলতান মুরাদ এর কাছ থেকে ওয়ালিসওয়ায় চলে যায় ড্রাকুলা। ভ্লাদ ছিলো রাগী প্রকৃতির। সে কখনো উসমানীদের পছন্দ করতো না।যদিও সুলতান মুরাদ এর পুত্র মেহমেদ এর সাথে তাদের বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো।
ভ্লাদ ও রাডু উসমানী প্রাসাদে বড় হতে থাকে।মেহমেদ এর সাথে ভালো সম্পর্ক হয় কিন্তু সে সবসময় নিজেকে ওয়ালিয়ান ভাবত।এদিকে রাডু ছিলো একটু ভিন্ন প্রকৃতির। সে উসমানীদের পছন্দ করে ফেলে।ভ্লাদ সবসময় নিজেকে বন্দী ভাবতো।ওয়ালিসিয়ার শাসক পুনরায় উসমানীদের সাথে বিশ্বাসঘাতকা করে।তখন সুলতান মুরাদ, ড্রাকুলার দুই ছেলে ভ্লাদ ও রাডুকে ডাকে।তারপর তাদেরকে দুটি পথ দেখায়।হয় তারা মৃত্যুদন্ড পাবে নাহয় উসমানীদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।রাডু ভয় পেয়ে যায় এবং সে উসমানীদের সেবায় করার মনোনিবেশ করে এবং তার ভাই ভ্লাদকে রাজি করায়।তখন সুলতান মুরাদ তাদেরকে মুক্তি দেয় এবং স্বাধীনভাবে উসমানী প্রাসাদে থাকতে দেয়।কিন্তু ভ্লাদ নিজকে বন্দী ভাবতে থাকে। কয়েক বছর পর ড্রাকুলা মারা গেলে সুলতান মুরাদ তাঁদেরকে স্বাধীনতা দেয় এবং ওয়ালিসিয়া শাসনের জন্য তাদেরকে মুক্ত করে দেয়।
ভ্লাদ এই আদেশ পেয়ে ওয়ালিসিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়,তারপর সে ওয়ালেসিয়ায় চলে যায়।যাওয়ার আগে,তার ভাই রাডুকে ওয়ালিয়ার নিতে চায় কিন্তু রাডু যেতে রাজি হয়না।সে মেহমেদ এর সাথে থাকে। ভ্লাদ এতে অসন্তুষ্ট হয়, কিন্তু রাডু ওয়ালিয়ার রাস্ট্রদূত হিসেবে উসমানী প্রাসাদে থাকতে চায়।পরে ভ্লাদ ওয়ালিসিয়ায় চলে যায় এবং শাসন কাজ সম্পন্ন করে। কয়েক বছর পর ভ্লাদ উসমানী প্রাসাদে আসে এবং সুলতান এর দরবারে যায়।তখন সে সুলতান পদে মেহমেদকে দেখতে চায়।মেহমেদ তখন কন্সনান্টিনোপোল বিজয়ের জন্য পরিকল্পনাবদ্ধ।তখন ভ্লাদ মেহমেদকে দেখে অবাক হয়, তারপর তার হাতে চুমু খায়। ভ্লাদ সুলতান মেহমেদ এর কাছ থেকে সৈন্য চায় কিন্তু সুলতান মেহমেদ জানায়, এখন সে সৈন্য দিতে পারবে না।কন্সনান্টিনোপোল অভিযান এর পর তাকে সৈন্য দিবে।কিন্তু ভ্লাদ এ কথায় সম্মত হয়নি।তারপর ভ্লাদ চলে যায়।
কন্সনান্টিনোপোল বিজয়ের কয়েক বছর পরের ঘটনা। ওয়ালিসিয়ার শাসক ভ্লাদ ড্রাকুলা উসমানীদের সাথে রূঢ় সম্পর্ক হয়ে ওঠে। ড্রাকুলা কয়েকটি অটোমান দূ্গে হামলা চালায় এবং সাধারণ মানুষকে হত্যা করতে থাকে।সে পোপ এর সাথে যোগ দেয় এবং উসমানীদের সাথে খ্রিস্টান সেনাবাহিনীর হয়ে উসমানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ায়। একদিন সুলতান মেহমেদ স্বপ্নে দেখতে পায় ভ্লাদ এর সাথে তার যুদ্ধ হচ্ছে এবং যুদ্ধের এক পর্যায়ে ভ্লাদ তাকে আহত করেছে।সুলতান মেহমেদ তখন জেগে ওঠে এবং চিন্তিত হয়।সুলতান মেহমেদ ভ্লাদ ড্রাকুলার কাছে দূত পাঠায় এবং তাকে ইস্তাম্বুল এ আসার আমন্ত্রণ জানায়।ভ্লাদ ড্রাকুলা উসমানী দূতদের হত্যা করে।সুলতান মুরাদ এতে অসন্তুষ্ট হয়।সে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে চায় না।রাজপুত্র রাডু এবং মাহমুদ পাশা সুলতান মেহমেদ এর ঘনিষ্ঠ দুজন। সুলতান মেহমেদ এর শ্বশুরকে পুনরায় ভ্লাদ ড্রাকুলা এর কাছে পাঠায়।ভ্লাদ তার সাথে বনে দেখা করে এবং তার সাথে থাকা সৈন্যদের হত্যা করে এবং তাকে বন্দী করে।
সুলতান মেহমেদ এ খবর পেয়ে,ড্রাকুলাকে কঠিনভাবে নেয়।তারপর সে ড্রাকুলার বিরুদ্ধে অভিযান এ যেতে সম্মত হয়।মাহমুদ পাশা এবং রাডু সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিতে চায়। কিন্তু সুলতান মেহমেদ জানায়,সে নিজে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিবে এবং মাহমুদ পাশা ও রাডু তার সাথে থাকবে।মেহমেদ বিশাল সৈন্যবহর নিয়ে ওয়ালিসিয়ার উদ্দেশ্য রওনা হয়।ওয়ালিসিয়া যাওয়ার পথে,এক নদীর সম্মুখীন হয়।নদী পারাপার এর জন্য এক লোকের কাছে যায়,যে ওই অঞ্চলের নৌবহর এর দায়িত্ব ছিলো।মেহমেদ তার কাছ থেকে নৌবহর নেয় নদী পারাপার এর জন্য। এদিকে নৌকা সরবরাহকারী ভ্লাদ ড্রাকুলার ঘনিষ্ঠ, সে ভ্লাদ এর কাছে যায় এবং ভ্লাদকে এসব তথ্য জানায়।ভ্লাস তাদের জন্য ফাঁদ পাতে।নদী পারাপার এর সময়, ভ্লাদ সেখানে আক্রমণ করে। সুলতান মেহমেদ পাল্টা আক্রমন করে।দীর্ঘ যুদ্ধের পর ড্রাকুলা পালিয়ে যায় এবং নদী পার হয়ে মেহমেদ ওয়ালিসিয়ায় প্রবেশ করে।
সুলতান মেহমেদ ওয়ালিসিয়ার রাজধানীর উদ্দেশ্য রওনা দেয়। ভ্লাদ মেহমেদ এর উপর ছোট ছোট আক্রমণ করতে থাকে।

0 Comments